corona antibodyEducation Health Others 

শরীরে করোনার অ্যান্টিবডির স্থায়িত্বের মেয়াদ

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ ইনস্টিটিউট অব জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ অনির্বাণ মিত্র অ্যান্টিবডি সম্বন্ধে আলোচনায় জানিয়েছেন, ভাইরাস হল শত্রু, আর অ্যান্টিবডি হল শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাহারাদার। অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শরীরের খুবই সামান্য এনার্জি খরচ হয়। এক্ষেত্রে শরীর ভাইরাসকে চিনে রেখেছে। এলে আবার অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। মোট কথা হল- রোগ সারলে, শরীরে ভাইরাস আর অবশিষ্ট না থাকলে, অ্যান্টিবডিও আজীবন বেশি হবে না। কমতে থাকে। সেটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তাই কয়েক মাসের মধ্যে অ্যান্টিবডি কমে যাচ্ছে বলে চিন্তা করার কিছু নেই। রক্তের শ্বেত কণিকাদের অন্যতম হল লিম্ফোসাইট। আবার লিম্ফোসাইট দুধরনের। যার একটির নাম টি-লিম্ফোসাইট, অন্যটি বি-লিম্ফোসাইট। বি-লিম্ফোসাইটের কাজই হল শরীরে রোগজীবাণু প্রবেশ করলে তাকে প্রথমে চিনতে পারা এবং প্রচুর অ্যান্টিবডি বানিয়ে ধ্বংস করতে সাহায্য করা।

শরীরে হাজার হাজার জীবাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে নির্দিষ্টভাবে চেনার জন্যে আলাদা আলাদা বি-লিম্ফোসাইট তৈরি হয়ে থাকে। রক্তের অন্যান্য কোষের মতো এরাও তৈরি হয় অস্থিমজ্জায়। তারপর তা পৌঁছে যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত লিম্ফ নোডে এবং সেখানেই অপেক্ষা করতে থাকে। শরীরের ভিতরে জীবাণু ঢুকলে সে কোনও না কোনও লিম্ফ নোডে গিয়ে পড়বে। তখনই জীবাণু বা ভাইরাসের কোনও একটা অংশ আটকাবে ওর জন্য নির্দিষ্ট বি-লিম্ফোসাইটের গায়ে। ওই বি-লিম্ফোসাইট সক্রিয় হয়ে উঠবে আর একটা বি-লিম্ফোসাইট থেকেই কয়েক হাজার নতুন কোষ তৈরি হবে। এদের বলা হযে থাকে প্লাজমা কোষ। এক সপ্তাহের মধ্যে একটি বি-লিম্ফোসাইট থেকে পাঁচ হাজার প্লাজমা কোষ তৈরি হতে পারে। এরা সবাই প্রথম বি লিম্ফোসাইটের মতোই। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে ‘ক্লোন’ বলা হয়ে থাকে। প্রতিটি প্লাজমা-কোষ অসংখ্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে, যেগুলি রক্ত ও কোষকলার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ওই জীবাণু বা ভাইরাসকে ধ্বংস করে।

আরও অনেক কোষের ভূমিকা আছে, যেমন টি-লিম্ফোসাইট। ভাইরাস প্রতিরোধে টি-লিম্ফোসাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এরা অ্যান্টিবডি তৈরি করে জীবাণুকে ধংস করতে সক্ষম হয়। জীবাণু মারতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রয়োজন। জীবাণুরা সব ধ্বংস হলে তখন আর অত অ্যান্টিবডির প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রতিটি অ্যান্টিবডি অণু বানাতে এনার্জির প্রয়োজন। তাই, শরীর সুস্থ হলে প্লাজমা কোষগুলির সিংহভাগ দুসপ্তাহের মধ্যেই মারা যায়। সব মিলিয়ে এক মাসের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে শরীরে ওই অ্যান্টিবডির মাত্রা কমতে থাকে। সব প্লাজমা কোষ অবশ্য মারা যায় না। একটা ছোট্ট অংশ নিজেদের অস্থিমজ্জায় গিয়ে বাসা বাঁধে। সেখানেই বহু বছর ধরে থেকে যায়। এদের বলা হয় দীর্ঘায়ু প্লাজমা কোষ। এরা অল্প পরিমাণে হলেও অ্যান্টিবডি তৈরি করে চলে। মেমরি কোষ বি-লিম্ফোসাইট যখন জীবাণুর সংস্পর্শে এসে সক্রিয় হয়েছিল, তখন আরেকদল কোষ তৈরি হয়েছিল, এদের নাম ‘মেমরি কোষ’। এরা অ্যান্টিবডি তৈরি করে না। তবে ঠিক যেমন আমাদের মস্তিকের স্নায়ুকোষ নানা স্মৃতি ধরে রাখে, মেমরি কোষও জীবাণুটিকে মনে রাখে।

আবার সংক্রমণ দেখা দিলে ওই মেমরি কোষ থেকে হাজার হাজার প্লাজমা সেল তৈরি হয়ে অ্যান্টিবডি বানিয়ে সংক্রমণ রোখার চেষ্টা করে। তখন ফের অ্যান্টিবডির মাত্রা শরীরে আবার বাড়তে থাকে। ভ্যাকসিনের প্রধান কাজ হল- আগে থেকে নির্জীব জীবাণু প্রবেশ করিয়ে তার বিরুদ্ধে মেমরি কোষ তৈরি করতে সাহায্য করা। যাতে ভবিষ্যতে আসল জীবাণু ঢুকে পড়লে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। অল্পের ওপর কোভিড হয়ে সেরে গেলে, একদিকে ভালোই। কারণ, সেক্ষেত্রে আক্রান্তের শরীরে মেমরি এবং দীর্ঘায়ুযুক্ত প্লাজমা কোষ তৈরি হয়ে গেল। যেন প্রকৃতিই তাঁদের ভ্যাকসিন দিয়েছে। ফের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। এমনকী আগামী বছর যখন ভ্যাকসিন বাজারে আসবে, এঁদের কিছুদিন পরে তা দিলেও চলতে পারে।

Related posts

Leave a Comment